প্রেরিত১
Listen to this chapter
0:00
0:00
পুনরুত্থিত খ্রীষ্ট তাঁর প্রেরিতদের নির্দেশ দেন
১
¶ প্রিয় থিয়ফিল, প্রথম বইটা আমি সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে লিখেছি, যা যীশু করতে এবং শিক্ষা দিতে শুরু করেছিলেন, সেদিন পর্যন্ত,
২
যেদিন তিনি নিজের মনোনীত প্রেরিতদের পবিত্র আত্মার মাধ্যমে আদেশ দিয়ে স্বর্গে গেলেন।
৩
নিজের দুঃখ সহ্য করার পর তিনি অনেক প্রমাণ দিয়ে তাঁদের কাছে নিজেকে জীবিত দেখালেন, চল্লিশ দিন ধরে তাঁদের কাছে দেখা দিলেন এবং ঈশ্বরের রাজ্যের ব্যাপারে বিভিন্ন কথা বললেন।
৪
আর তিনি তাঁদের সঙ্গে মিলে এই নির্দেশ দিলেন, তোমরা যিরুশালেম থেকে বাইরে যেও না, কিন্তু পিতার প্রতিজ্ঞা করা যে দানের কথা আমার কাছে শুনেছ, তাঁর অপেক্ষা কর।
৫
কারণ যোহন জলে বাপ্তিষ্ম দিতেন, কিন্তু তোমরা কিছুদিন পর পবিত্র আত্মায় বাপ্তাইজিত হবে।
স্বর্গারোহণ
৬
সুতরাং তাঁরা সকলে একসঙ্গে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, প্রভু, এই কি সেই দিন, যখন আপনি ইস্রায়েলের হাতে রাজ্য প্রতিস্থাপন করবেন?
৭
তিনি তাদেরকে বললেন, “যেসব দিন বা কাল পিতা নিজের অধিকারে রেখেছেন তা তোমাদের জানার বিষয় নয়।
৮
কিন্তু পবিত্র আত্মা তোমাদের উপরে এলে তোমরা শক্তি পাবে; এবং তোমরা যিরূশালেম, সমস্ত যিহূদীয়া, শমরিয়া দেশে এবং পৃথিবীর শেষ পর্যন্ত আমার সাক্ষী হবে।”
৯
যখন প্রভু যীশু এসব কথা বলছেন, তিনি তাঁদের চোখের সামনে স্বর্গে উঠে যেতে লাগলেন, একটি মেঘ তাঁদের দৃষ্টিপথ থেকে তাঁকে ঢেকে দিল।
১০
তিনি যাচ্ছেন আর তাঁরা আকাশের দিকে এক নজরে চেয়ে আছেন, এমন দিন, সাদা পোশাক পরা দুজন মানুষ তাদের কাছে দাঁড়ালেন;
১১
আর তাঁরা বললেন, “প্রিয় গালিলের লোকেরা, তোমরা আকাশের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছ কেন? এই যে যীশু তোমাদের কাছ থেকে স্বর্গে গেলেন, তাঁকে যেমন স্বর্গে যেতে দেখলে, ঠিক তেমনি তাঁকে ফিরে আসতে দেখবে।”
উপরের ঘরে অপেক্ষা ও প্রার্থনা
১২
¶ তখন তাঁরা জৈতুন পর্বত থেকে যিরূশালেমে ফিরে গেলেন। সেই পর্বত যিরুশালেমের কাছে, এক বিশ্রামবারের পথ।
১৩
শহরে গিয়ে যেখানে তাঁরা ছিলেন, সেই উপরের ঘরে গেলেন পিতর, যোহন, যাকোব ও আন্দ্রিয়, ফিলিপ ও থোমা, বর্থলময় ও মথি, আলফেয়ের ছেলে যাকোব ও ঈশ্বরভক্ত শিমোন, জীলট এবং যাকোবের (ভাই) যিহূদা,
১৪
তাঁরা সকলেই মহিলাদের এবং যীশুর মা মরিয়ম ও যীশুর ভাইদের সঙ্গে এক হৃদয়ে প্রার্থনা করতে থাকলেন।
মথিয়ের নির্বাচন
১৫
¶ সেদিন এক দিন প্রায় একশো কুড়ি জন এক জায়গায় একত্রে ছিলেন, সেখানে পিতর ভাইদের মধ্যে দাঁড়িয়ে বললেন
১৬
প্রিয় ভাইয়েরা, যারা যীশুকে ধরেছিল, তাদের পথ দেখিয়েছিলেন যে যিহূদা, তার ব্যাপারে পবিত্র আত্মা দায়ূদের মুখ থেকে আগেই যা বলেছিলেন, সেই শাস্ত্রীয় বাক্য সফল হওয়া দরকার ছিল।
১৭
কারণ সেই ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে ছিল এবং এই পরিচর্য্যা কাজের লাভের ভাগিদার হয়েছিল।
১৮
সে মন্দ কাজের রোজগার দিয়ে একটি জমি কিনেছিল। তারপর সে মাথা নিচু অবস্থায় মাটিতে পড়ল, তার পেট ফেটে যাওয়াতে নাড়ি ভুঁড়ী সব বের হয়ে পড়ল;
১৯
আর যিরুশালেমের সকল লোকে সেটা জানতে পেরেছিল, এজন্য তাদের ভাষায় ঐ জমি হকলদামা অর্থাৎ “রক্তাক্ত ভূমি” নামে পরিচিত।
২০
কারণ গীতসংহিতায় লেখা আছে, “তার ভূমি খালি হোক, তাতে বাস করে এমন কেউ না থাক এবং তার পালকের পদ অন্য কাউকে দেওয়া হোক।”
২১
সুতরাং, সেদিন পর্যন্ত, যতদিন যীশু আমাদের মধ্যে চলাফেরা করতেন, ততদিন সবদিন যাঁরা আমাদের সঙ্গ দিয়েছে,
২২
যোহনের বাপ্তিষ্ম থেকে শুরু করে যেদিন প্রভু যীশুকে আমাদের কাছ থেকে স্বর্গে উঠিয়ে নেওয়া হয়, এঁদের একজন আমাদের সঙ্গে তাঁর পুনরুত্থানের সাক্ষী হন, এটা অবশ্যই দরকার।
২৩
তখন তাঁরা এই দুজনকে দাঁড় করালেন, যোষেফ যাঁকে বার্শবা বলে, যাঁর উপাধি যুষ্ঠ,
২৪
এবং মত্তথিয়; আর তাঁরা প্রার্থনা করলেন, হে প্রভু, তুমি সবার হৃদয় জান, সুতরাং এই দুজনের মধ্যে যাকে মনোনীত করেছ তাকে দেখিয়ে দাও।
২৫
যিহূদা নিজের জায়গাতে যাওয়ার জন্য এই যে সেবার ও প্রেরিতের পদ ছেড়ে গিয়েছে, তার পরিবর্তে পদ গ্রহণের জন্য দেখিয়ে দাও।
২৬
পরে তারা দুজনের জন্য গুলিবাঁট করলেন, আর মত্তথিয়ের নামে গুলি পড়ল, তাতে তিনি এগারো জন প্রেরিতের সঙ্গে যোগ দিলেন।
Use ← → arrow keys to navigate
Settings
Reading Style
Typeface
Font Size px
Reading Width chars
Options
Study Note